অমুক ব্যক্তি আমাদের কাফির বানিয়ে ছাড়বে”—এই উক্তিটির বিধান

প্রশ্ন: আমার কলেজের এক সহপাঠী কয়েক মাস আগে বলেছিল, “সে আমাদের কাফির (অবিশ্বাসী) বানিয়ে ছাড়বে।” তার কথাটির উদ্দেশ্য ছিল—প্রফেসর এতটাই কঠোর যে তিনি আমাদের ঈমান কেড়ে নেবেন এবং আমাদের অবিশ্বাসী বানিয়ে ফেলবেন । এই কথাটি বলার কারণে সে কি কাফির হয়ে গেছে?

উত্তর: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং আল্লাহর রাসূলের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক:

যদি কোনো ব্যক্তি বলে যে, “অমুক ব্যক্তি আমাদের কাফেরে (অবিশ্বাসী) পরিণত করবে”, তবে তার উদ্দেশ্য সাধারণত এই হয় যে—ঐ ব্যক্তির খারাপ আচরণ অথবা মনে সংশয় জাগিয়ে তোলার কারণে সে আমাদের কুফরি করতে প্ররোচিত করবে।

একথা বলার কারণে ঐ ব্যক্তি নিজে কাফের হয়ে যায় না, কারণ সে ভবিষ্যতের এমন একটি বিষয় নিয়ে কথা বলছে যা এখনও ঘটেনি।

কিন্তু যেকোনো পরিস্থিতিতে এই ধরনের কথা বলা অত্যন্ত জঘন্য বা অপছন্দনীয় কাজ। কারণ কুফর বা অবিশ্বাসের বিষয়টি এতো হালকা নয় যে, সামান্য কোনো বিরক্তির সম্মুখীন হলেই একজন মানুষ তাতে লিপ্ত হয়ে যাবে। এই ধরণের বাক্য ব্যবহার করা ধর্মীয় দায়বদ্ধতার অভাবকে নির্দেশ করে এবং এটি প্রকাশ করে যে, বক্তা কুফরিতে লিপ্ত হওয়ার বিষয়টিকে খুব সহজ বা তুচ্ছ মনে করছেন।

আমাদের যা করা উচিত তা হলো—মুখের স্খলন বা অনিয়ন্ত্রিত কথাবার্তা সম্পর্কে অত্যন্ত সতর্ক থাকা। মহান আল্লাহ বলেন (অর্থের অনুবাদ):

{মানুষ যে কথাই উচ্চারণ করে, তা লিপিবদ্ধ করার জন্য তার কাছে একজন সদা প্রস্তুত পর্যবেক্ষক (ফেরেশতা) রয়েছে।} [সূরা ক্বাফ ৫০:১৮]।

এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “মানুষ অনেক সময় আল্লাহর অসন্তুষ্টির কারণ হয় এমন কথা বলে ফেলে যা সে মোটেই গুরুত্ব দেয় না, অথচ সেই কথার কারণেই তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।” (সহীহ আল-বুখারী ৬৪৭৮ এবং মুসলিম ২৯৮৮)।

আর আল্লাহই ভালো জানেন।

শাইখ মুহাম্মাদ সালেহ আল-মুনাজ্জিদ

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *